
শীতলক্ষ্যা রিপোর্ট
গতকাল মধ্য রাত হতে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত মাত্র ১৩ ঘন্টা ৪৩ মিনিট ৩ সেকেন্ড’র ব্যবধানে দেশের অনেক জেলায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র’র তথ্য অনুযায়ী কম্পনগুলোর মাত্রা ছিল মৃদু-মাঝারি। এদিকে পরপর টানা ৩ বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়া’য় সাধারণ মানুষের মাঝে মাত্রাতিরিক্ত আতংক বিরাজ করছে। এছাড়াও, ভূমিকম্প অনুভূত হয়ার সময় অনেকেই হুরুহুরি করে এদিক ওদিক ছুটিতে দেখা গেছে।
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, গতকাল মধ্যরাত ৩টার পর থেকে বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে প্রায় ১৩ ঘণ্টার মধ্যে এই কম্পনগুলো অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর ঘোড়াশালে।। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৬। এটি মৃদু ভূমিকম্প হওয়ায় অনেকেই ঘটনাটি টের পাননি।
এর মধ্যে প্রথম ভূমিকম্প অনুভূত হয় গতকাল মধ্যরাতে। রাত প্রায় ৩টা ২৯ মিনিটে টেকনাফ থেকে ১১৮ কিলোমিটার দূরে ৪ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এ ভূমিকম্পে কেঁপেছে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ শহর।
ভূকম্পনবিষয়ক ওয়েবসাইট ভলকানো ডিসকভারি জানিয়েছে, টেকনাফে খুব অল্প ঝাঁকুনি দেওয়ায় বেশিরভাগ মানুষ এটি টের পাননি।
ভলকানো ডিসকভারি বঙ্গোপসাগরের ভূমিকম্পের উৎপত্তির গভীরতার তথ্য জানাতে না পারলেও ইএমএসসি বলেছে, এটি মাটির ১০ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়েছিল।
এরপর রাত ৩টা ৩০ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডে সিলেটে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৪। এটি মৃদু ভূমিকম্প হওয়ায় অনেকেই ঘটনাটি টের পাননি।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন জানান, দিবাগত রাত ৩টা ৩০ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডে ৩ দশমিক ৪ মাত্রার এ কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের মনিপুরে। এরপর আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তৃতীয় কম্পন অনুভূত হয়। যার মাত্রা ছিল ৩.৬।
ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে এ কম্পন অনুভূত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।