
★ ডকইয়ার্ড গুলো দেখভাল বা নজরদারির কেউ নেই- নাগরিক সমাজ।
★ রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক তদন্ত নিশ্চিত করেন মামলার বিষয়'টি।
★ এ মামলায় ১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শীতলক্ষ্যা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে ভাড়ায় এনে একটি মালবাহী জাহাজ কেটে বিক্রি করার মতো অভিযোগ উঠেছে! বিষয় রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী জাহাজ মালিক রাকেশ শর্মা।
রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক তদন্ত মামলার বিষয়'টি নিশ্চিত করেন। তথ্য বলছে, গত মঙ্গলবার এ বিষয় মামলা নেন রূপগঞ্জ থানা পুলিশ।
এর আগে, গত ১ নভেম্বর শাহাদাতের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম থেকে ‘ডাম্ব বার্জ (ডিবি)’ নামের জাহাজটি সাত লাখ ২০ হাজার টাকায় এক মাসের চুক্তিতে ভাড়া করে আনা হয়।
তবে ভাড়ায় এনে, আনুমানিক গত ১৫ দিন ধরে রূপগঞ্জ উপজেলাধীন পিরোজপুর মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত এ ইচবি হারুন অ্যান্ড ব্রাদার্স মেঘনা শিপইয়ার্ড’-এ জাহাজটির অধিকাংশ কেটে বিক্রি করা হয়েছে বলে জানান মামলার বাদী।
মামলা সূত্র বলছে, শাহাদাতের নেতৃত্বে মো. জাফর, ইকবাল হোসেন, নজরুল ইসলাম, এমদাদুল হক, জাফর মিয়াসহ ১০–১৫ জনের একটি সিন্ডিকেট শিপইয়ার্ডে নিয়ে জাহাজটি কেটে স্টিলের প্লেট বিক্রি করে দেয়। উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের কাদিরগঞ্জ এলাকায় মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত ‘এইচবি হারুন অ্যান্ড ব্রাদার্স মেঘনা শিপইয়ার্ড’-এ গত ১৫ দিন ধরে জাহাজটি কেটে ফেলা হয়। শিপইয়ার্ডটির মালিক শাহাদাতের বাবা পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম।
জাহাজটির মালিক চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী রাকেশ শর্মা মঙ্গলবার রাতে সোনারগাঁ থানায় মামলা করেন। মামলায় তিনি এক কোটি ৬০ লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগ করেন। পুলিশ এ ঘটনায় নজরুল ইসলাম নামে এক বিএনপিকর্মীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
জানা যায়, গত ১ নভেম্বর শাহাদাতের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম থেকে ‘ডাম্ব বার্জ (ডিবি)’ নামের জাহাজটি সাত লাখ ২০ হাজার টাকায় এক মাসের চুক্তিতে ভাড়া করে আনা হয়। পরে শাহাদাতের নেতৃত্বে মো. জাফর, ইকবাল হোসেন, নজরুল ইসলাম, এমদাদুল হক, জাফর মিয়াসহ ১০–১৫ জনের একটি সিন্ডিকেট শিপইয়ার্ডে নিয়ে জাহাজটি কেটে স্টিলের প্লেট বিক্রি করে দেয়
মালিক রাকেশ শর্মা জানান, জাফর নামে এক ব্যক্তি পরিবহনের জন্য জাহাজটি ভাড়া নেন। কিন্তু পরে তিনি শাহাদাতকে সঙ্গে নিয়ে জাহাজটি কেটে বিক্রি করেন। শাহাদাতের বাবা রফিকুল ইসলাম ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিলেও পরে তা না দেয়ায় তিনি মামলা করতে বাধ্য হন।
এ বিষয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি জানার পর জাহাজ কাটা বন্ধ করা হয়েছে এবং মালিকপক্ষের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চলছে।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাশেদুল হাসান খান জানান, মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রফিকুল ইসলাম আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সে সময় তাঁর ছেলে শাহাদাত নানা অপকর্মে জড়িত ছিল। মামুনুল হকের রিসোর্ট কাণ্ডে জড়িত হওয়ার পর পুনরায় তিনি বিএনপিতে ফিরে আসেন।